স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নামে স্লিপ দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকী, আতঙ্কে ট্রাক মালিক সমিতি। এ অভিযোগ কোনাবাড়ী থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক তানবীরুল ইসলাম রাজিব ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইজারাকৃত আদায়ের রশিদ দিয়ে চাঁদা তুলতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়েছে। স্থনীয় বিএনপি’র নেতা তানবীর ইসলাম রাজিব ও তাঁর বাহিনীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করা হলে হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যায়।
তবে গাড়ির মালিকরা বলছেন, তাঁরা কোনো ভাবেই চাঁদা দিবে না। ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে তাঁদের গাড়ির চাকা ঘুরছে না। ৫-৬ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বাড়তি দামেও গাড়ির ফুয়েল (তেল) মিলছে না সংকট। বেশিরভাগ ট্রাক মালিকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তির ওপর গাড়ী কিনে বেকায়দায় পড়েছেন।
মালিকরা বলছেন, সংসার চালানো তো দূরের কথা গাড়ির কিস্তির টাকা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে এক শ্রেণির মানুষেরা চাঁদাবাজিতে ব্যবস্ত হয়ে পড়েছে। চাঁদা না দিলে তাঁরা হত্যার হুমকী-ধামকী ও মারপিট করার ভয়ভীতি আসছে। তাঁরা না কি ট্রাকস্ট্যান্ড ইজারা নিয়ে এসেছে।

১২-ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে নতুন বাজার ট্রাকস্ট্যান্ডে মালিকদের প্রতি বুলডোজার চালানো হচ্ছে। সিটির ইজারার নামে গেল শনিবার (২রা মে) দুপুর ২টার দিকে একটি নোহা গাড়ির ভেতর দেশী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাপাতি, লোহার রড, হকিস্টিক নিয়ে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় আসেন রাজাবাড়ীর রাজিব বাহিনী।
পারিজাত এলাকার তৌহিদুল ইসলাম, মানিক মিয়া, আব্দুল মালেক ও তাঁর ভাই খালেক মিয়া গংরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইজারাকৃত আদায়ের রশিদ বই নিয়ে নতুন বাজার ট্রাকস্ট্রান্ড থেকে বড় ট্রাক ১৫০ টাকা, ছোট ট্রাক ১০০ টাকা, মাঝারি পিকআপ ৬০ টাকা ও সর্বশেষ ছোট পিকআপ থেকে ৪০ টাকা চাঁদা দাবী করে।
একপর্র্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চাঁদাবাজদের ধাওয়া দেয়া হয়। ধাওয়া খেয়ে রাজিব বাহিনীর মানিক মিয়া, তৌহিদুল ইসলামরা তোপের মুখে পড়ে নোহা গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে একটি নোহা গাড়ি উদ্ধার করেন।
এসময় ট্রাকশ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় ১ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মাসুদ এসে ট্রাকশ্রমিক ও স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন।
সাধারণ ট্রাকশ্রমিক, মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনাবাড়ির রাজাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মো. তানবীর ইসলাম রাজিব, পারিজাত এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে মো. মানিক মিয়া, একই এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলামসহ আব্দুল মালিক ও খালেক গংয়েরা ট্রাকস্ট্রান্ড ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি ও জিম্মি করে আসছে।
তবে ট্রাক মালিকরা বলছেন, তাাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোনোভাবেই চাঁদা দেবে না। তাঁরা বলছেন, বিগত ১৭ বছরে চাঁদা দেয়নি এখনো তাঁরা চাঁদা দেবে না। তবে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজরা ট্রাক মালিকদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
এদিকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার ট্রাকস্ট্রান্ডের পশ্চিম পাশের ছোট ছোট দোকানপাটের মালিকরা চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, কোনাবাড়ী থানা বিএনপি’র সভাপতি ইদ্রিস আলী সরকারের ভাতিজা রাজাবাড়ীর মাসুদের ভয়ে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জিম্মি হয়ে পড়েছেন। মাসুদ গংরা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই বছর ধরে মাসিক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে আসছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। চাঁদা না দিলে তাঁরা ব্যবসা করতে দিচ্ছে না। কোনাবাড়ি নতুন বাজারকে চাঁদাবাজের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে।
পারিজাত এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নানা সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা রয়েছে। তাঁর নামে পূর্বেও থানায় মামলা রয়েছে। এছাড়া বেশকয়েক মাস পূর্বে পারিজাত রফিক পুলিশের বাড়িতে একটি চোর পিটিয়ে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সিটির পক্ষ থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার ট্রাকস্ট্রান্ড ‘ইজারা দেওয়া হয়েছে কি না তা জানা নেই। আর ইজারা হলে তো পত্রিকায় ট্রেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়, এটা পকেট ইজারা হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোনের সুইচ বন্ধ পাওয়া গেছে, যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক নেতা বলেন, তানবীর ইসলাম রাজিব বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ও তাঁর বড় ভাই রিপন নিরাপদ ও অবাধে রেষ্টোরেন্টের (খাবার হোটেল) পোশাক কারখানায় ঝুটসহ রড সিমেন্টের ব্যবসা করে করেছেন। এখন বিএনপি’র তথা সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে রাজিব, এতে মেয়র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সরকারের নির্বাচনে গিয়ে প্রভাব পড়বে।
জিএমপি’র ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মাসুদ জানান, শনিবার কোনাবাড়ী নতুন বাজার এলাকায় ট্রাকস্ট্রান্ডে ট্রাকশ্রমিক ও স্থানীয় বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মাঝে মারামারি সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ট্রাক শ্রমিকরা অবরোধ করে রাখলে যানজটের সৃষ্টি হয়।




