গাজীপুর থেকে সাবা:
মারপিট, হত্যার হুমকী, ট্রাক মালিক ও দোকানদারদের জিম্মি করা, ২০ হাজার টাকার চাঁদার দাবি, ক্ষমতাসীন দলের অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জেলা কভার ভ্যান, পিক-আপ ও ট্রাক মালিত সমিতির সভাপতি মো. মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে।
মজিবর রহমান ছাড়াও আইয়ুব খান, আব্দুল মজিদ মিয়া, মানিক মিয়া, আবুল হোসেন, আব্দুল মালেক, ইনসান আলী, মো. আরিফ, এমদাদুল হক, মাহাবুব, আকরাম হোসেন ও মামুন মিয়া।

তাঁরা গাজীপুর জেলা কভার ভ্যান, পিক-আপ ট্রাক মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খানের ছবি দিয়ে ফেস্টুন ও ব্যানার ছাপিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ রংবাজি করে আসছে।
জানা গেছে, গাজীপুরের কোনাবাড়ি নতুন বাজার এলাকার ট্রাক মালিক, শ্রমিক ও নতুন বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারি বনের জমির ওপর গড়ে উঠা কিছু চা-পান দোকানদারদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রে জানায়, ড. ইউনুস ক্ষমতায় বসার পর থেকে নগরীর কোনাবাড়ি নতুন বাজার ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান মালিক ট্রাকস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের অস্থায়ী দোকানদারদের ওপর স্টিমরুলার চালানো হয়। এ স্টিমরুলার ত্রয়দশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে নতুন চাঁদাবাজদের আবির্ভাব প্রকাশ পায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ নিয়ে বিএনপি’র এক নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রম অধিদপ্তর বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের (৪৫৮২) নং কোর্ডকে ইস্যু করে এরা নতুন বাজারে মোটা দাগে চাঁদাবাজি ও স্টিমরুলার চালাচ্ছে শুনছি।
তিনি বলেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে অসহায় দোকানদার এবং কিস্তির ওপর ঋণ নিয়ে ট্রাক কেনা কিছু মালিকদের নানাভাবে হুমকী-ধামকী, মারপিট করা হচ্ছে। এমন কি তাঁদেরকে আওয়ামী লীগের নেতা বানিয়ে খুনের মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা চলছে এসব আমার নজরে আছে। তবে বেশিরভাগ ট্রাক ও কভার ভ্যান মালিকরা বহিরাগত হওয়ায় সুযোগটা বেশি নিচ্ছে চাঁদাবাজরা।
জানা গেছে, তাঁরা এক প্রকার জিম্মি ও জোড়পূর্বক ভাবে নতুন বাজার স্ট্যান্ড থেকে বড় ট্রাক প্রতি ২০ হাজার, পিক-আপ ও কভার ভ্যাান প্রতি ১৫ থেকে ১০ হাজার করে টাকা চাঁদা দাবি করছে। মূলত এটা নিয়েই বেশ কয়েক দিন যাবৎ হানাহানি চলছে।
একাধিক সূত্রে জানায়, গাজীপুর জেলা কভার ভ্যান, পিক-আপ ও ট্রাক মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খানের ছবি দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে এমন কি তাঁর নাম ভাঙিয়ে দিনে-দুপুরে প্রকাশে দল-বল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চাঁদা নিতে আসে মজিবুর রহমান ও তাঁর বাহিনী। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই মারটিপ করা হয় হুমকী-ধামকী ও পুলিশের ভয় প্রদান করেন তাঁরা।
প্রায় ১৮ বছর পূর্বে নগরীর কোনাবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় (ফরেস্ট) সরকারি বন বিভাগের জমির ওপর কোন প্রকার গাছ-পালা না থাকায় ট্রাক, পিক-আপ ও কভার ভ্যান মালিকরা গড়ে তুলেছে স্ট্যান্ড। পাশাপাশি স্ট্যান্ডের পশ্চিম দিকে কিছু গরীব মানুষ ছোট ছোট চা, খাবার হোটেলসহ নানা প্রকার দোকানপাট বসিয়ে কোনোমতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংসার চালায় তাঁরা। আর এতেই একটি মহলকে মাসে মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়।
তবে বিগত দিনেও এখানে ট্রাক, পিক-আপ ও কভার ভ্যান স্ট্রান্ড এবং দোকান-পাট ছিলো। অতীতে কখনো এক কালিন টাকা তো দূরের কথা একটি টাকাও চাঁদা দিতে হয়নি তাঁদের। অথচ মজিবর রহমান বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রম অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন করে সেই রেজিস্ট্রেশন (৪৫৮২) এর কোর্ড নাম্বার দিয়েই ট্রাক ও কভার ভ্যান প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার করে টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সামাদ আল আজাদ এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ওই অফিসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রম অধিদপ্তর থেকে কেউ কিছু লোকের নামের তালিকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিয়ে যদি সেই রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করে আর কেউ যদি ওই নাম্বার দিয়ে লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।
গাজীপুর জেলা কভার ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. মজিবর রহমান এর ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কোনাবাড়ি থানা পুলিশ জানায়, গেল ১২ মে প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রাক ও কভার ভ্যান মালিকরা থানায় এসেছিলো অভিযোগ নিয়ে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





