গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও জোড়পূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃতরা হলেন, জিএমপি’র কোনাবাড়ি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আজিজুল হক, কনেষ্টবল নাজমুল হোসেন ও মামুন হোসেন।
এ ধরণের ঘটনা প্রকাশে আসলে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন তাঁর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানায়, তিনি গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
গেল সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কোনাবাড়ির রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নেন।
পরে তাঁকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তল্লাশি আগে গালে চড়থাপ্পর মারা হয়। একপর্যায়ে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয় ওই ব্যবসায়ীকে । পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় ওই পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় সিএনজিতে থাকা সিফাত নামের আরেক যুবককেও আটক রাখা হয়। তাঁর মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ থাকার অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি তাঁর ভাইয়ের মাধ্যমে দেলোয়ারের মোবাইলে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
পরে দেলোয়ারকে সিএনজি চালকের মাধ্যমে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা তাঁর ছবি তুলে রাখে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। পরে তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নামিয়ে দেওয়ার সময় মাত্র ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৮জন পুলিশ সদস্য তাঁর বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়।
পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আদায়কৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে থাকা সিফাত মোবাইল ফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কোনাবাড়ি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু নাসের আল-আমিন জানান , ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল এএসআই আজিজুল হককে এবং আজ সকালে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন ও মামুন হোসেনকে প্রত্যাহার করে লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।




