স্টাফ রিপোর্টার: ৫-আগস্টের পূর্বে অনেকটাই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা ছিল। অথচ সেই ব্যক্তি আজ অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে, এ যেন আলাদ্দিনের চেরাগ।
আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর হঠাৎ ফুলে ফেঁপে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বিপ্লব খান।

তবে ৫-আগস্টের পূর্বে অনেকটাই আওয়ামী পন্থি মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করেছেন। সুবিধাবাদী বলে কথা। ওই সময় ঝুট-ব্যবসাও করেছেন, তুলেছেন সিটির ৭নং ওয়ার্ডের ময়লার টাকা।
বিগত দুই বছরেই জরুন এলাকায় বহুতল ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। কাশিমপুর ভবানীপুর এলাকায় রয়েছে নয় (৯) শতাংশ ক্রয়কৃত জমি।
বিপ্লব মূলত জরুন এলাকায় একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ওই বাহিনী দ্বারাই তিনি নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের সকল ঝুট-ব্যবসাসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঝুট-ব্যবসার আড়ালে আরো কিছু গোপন ব্যবসা থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন।
স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫-আগস্টে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা চুত্ত হলে ওই এলাকায় মূলত বিপ্লব খান আধিপত্য বিস্তার করেন। যত অপরাধমূলক কর্মকান্ড সবই চলে তাঁর ইশারায়। ৭নং ওয়ার্ড আ.লীগের পার্টি অফিস-সহ ১০-১৫টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও হামলা করেন বিপ্লব বাহিনী। বিপ্লবের তান্ডবে ওই এলাকার আ.লীগ কর্মীরা ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়।
আজও পর্যন্ত বেশকিছু নিরীহ মানুষ এলাকায় আসতে পারছেন না তাঁর ভয়ে। অথচ এই বিপ্লব খান আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় বিগত ১৭ বছর ঝুট-ব্যবসাও পরিচালনার পাশাপাশি সিটির ময়লার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি হিংস্র রাজনীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন নগরীর ৭নং ওয়ার্ডকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের এক অবহেলিত যুবব দলকর্মী জানান, ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মারা যাওয়ার কারণে একাই দুইটি পদ আঁখড়ে ধরে রেখেছেন বিপ্লব খান। শুধু ঝুট ব্যবসায় এতো টাকা? আগের মত তো ঝুট-ব্যবসায় তেমন লাভও হয় না, ঝুট-ব্যবসার আড়ালে অন্যকিছু থাকতে পারে। কাশিমপুরেও জমি আছে, তবে কিভাবে কিনেছে কতটুকু আছে তা জানি না। ওই অবহেলিত কর্মী আরো বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলেও বিপ্লব বেশ দাটপের সঙ্গেই ছিলেন। বিপ্লব জরুন এলাকার প্রবীন ব্যক্তি নাছিরউদ্দিন পালোয়ান হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে মামলার এজার সূত্রে জানা গেছে। তখনো ঝুট-ব্যবসা ও সিটির ৭নং ওয়ার্ডের বর্জ্য (ময়লা) থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লবের কারণে অনেকেই মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছেন।
বিপ্লব খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আগেই যুবদলের সাধারাণ সম্পাদক ছিলাম। আমার সভাপতি মারা যাওয়ার পর দুই পদেরই দায়িত্ব পালিন করি। আমি চাঁদাবাজি করি না। আওয়ামী লীগের সময়ও টুকটাক ঝুট-ব্যবসা করেছি। কাশিমপুর গোবিন্দবাড়ী এলাকায় ২১ বছর আগে জমি কিনেছি। আমি বিগত আওয়ামী লীগের আমলে ময়লার ব্যবসা করেছি। আামার নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক না। আমার আপন ছোট ভাই আওয়ামী লীগ করে। চাচাতো ভাইয়েরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।





